বিংশ শতাব্দির ত্রিশের দশক। তখন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাষনের শেষ যূগ চলছিল। প্রায় তিরিশ কোটি জনসংখ্যার ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত নগন্য। শুধু সংখ্যায়ই নয়, আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটেও মুসলমানদের অবস্থান পৌছে গিয়েছিল সমাজের সর্ব নিম্ন স্তরে। জমিদার বাড়ির দফতর থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যেকটি গুরুত্বপুর্ন পদ যেমন, মোড়ল-মাতব্বরি সবই ছিল হিন্দুদের দখলে। যদিও ভারতবর্ষের এদিকটায় মানে বাংলাদেশের অনেক জেলাতেই মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল, কিন্তু প্রভাব প্রতিপত্তিতে সবখানে হিন্দুদের দাপটই ছিল সবচে বেশি।
সে সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ভেতর গোত্রভেদ এবং অহংকার ছিল মাত্রাতিরিক্ত। তাদের নিজেদের মধ্যেই জাত নিয়ে প্রচন্ড দ্বিধাবিভক্তি ছিল, উঁচু জাতের মানুষ নিচু জাতের ছায়া মাড়াতেও পছন্দ করত না। আর মুসলমানদেরকে তারা তাদের সবচে নিচু জাতের চেয়েও খারাপ চোখে দেখত। হিন্দুদের বাড়িতে মুসলমানদেরকে কখনোই চেয়ারে বসতে দেবার রেওয়াজ ছিল না। এমনকি তাকে পিঁড়ি কিংবা চট এগিয়ে দিয়ে বসতেও বলা হত না। বরং প্রয়োজনে হিন্দু গেরস্ত হয়ত মুসলমান অতিথিকে অনেকটা আদেশের ভঙ্গীতেই পাশ থেকে চট বা পিঁড়ি টেনে নিয়ে বসতে বলতেন। শুধু যে অবস্থাপন্ন হিন্দু পরিবার দরিদ্র মুসলমানের সাথে এ ধরনের আচরন করত তা নয়, বরং প্রত্যেক হিন্দু পরিবারই অপেক্ষাকৃত ধনী মুসলমান অতিথিদের সাথেও এধরনের আচরনে অভ্যস্ত ছিল।
জমিদার বাড়িতে কিংবা গুরুত্বপুর্ন সরকারী পদ এবং গ্রামের মাতবর শ্রেনীর পদবীগুলোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবেও প্রাধান্য বেশি পেতেন হিন্দুগন। এবং এসব হিন্দু শিক্ষকগনও শিক্ষার্থীদের মধ্যে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ পছন্দ করতেন। তাঁরা হিন্দু ও মুসলিমদের জন্যে শ্রেনীকক্ষে ভিন্ন ভিন্ন বসার স্থান নির্ধারন করে দিতেন। কেউ কেউ আবার মুসলিমদের জন্যে কেবল শ্রেণীকক্ষের একদম পেছনের বেণ্চগুলো নির্ধারন করে দিতেন। শুধু শ্রেনীকক্ষে বসার স্থানের ব্যাপারেই নয়, বিদ্যালয়ে সকল ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হত সংখ্যালঘু মুসলিম শিক্ষার্থিদের।
অধ্যাপক মোহাম্মদ মতিউর রহমান (সাবেক অধ্যাপক, বাঙলা বিভাগ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি) তাঁর ছেলেবেলার একটা ঘটনার কথা বললেন। উল্লেখ্য উনার জন্ম সেই তিরিশের দশকেই। তিনি কোন একদিন বিদ্যালয় থেকে তাঁর সহপাঠিদের সাথে একসাথে বাড়ি ফেরার পথে ঘটনাক্রমে হিন্দু জমিদারের কলাগাছ থেকে একটা কলা ছিড়েছিলেন। কেমন করে যেন সেই খবর চলে গেল জমিদারের কাছে। সেদিনই হিন্দু জমিদার তার লোকজন পাঠিয়ে মুসলমানের ছেলের হাতের ছোঁয়া লাগা গাছটিকে উপড়ে ফেলে দিলেন। সেই সময়কার হিন্দু মহল এতটাই ঘৃণা করতেন মুসলমানদের।
বৈষম্যের হাত থেকে বাঁচতেই মুসলিম নের্তৃবৃন্দ বহুবার দাবী তুলেছিলেন একটি সম্পুর্ণ আলাদা মুসলমান প্রধান ভূমির জন্যে। এ দাবীর ফলশ্রুতিতে বঙ্গভঙ্গ হলেও পরে তা শক্তিশালী হিন্দু নের্তৃত্বের প্রভাবে রদ হয়ে গেল। আমরা মুসলিমরা পিছিয়ে ছিলাম, পিছিয়েই রইলাম। ব্রিটিষ শাষিত ভারতে সবচে ক্ষতিগ্রস্ত এবঙ বৈষম্যের শিকার হয়েছিল মুসলিমগন। আর তাই ব্রিটিষ বিরোধী আন্দোলনে যতটা না ভূমিকা রেখেছে হিন্দুগন, তারচে বেশি ভূমিকা ছিল মুসলমানদেরই। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিষরা ভারত ছাড়তে রাজী হল। এবং তারা হিন্দু ও মুসলিমদের জন্যে আলাদা রাষ্ট্রেও রাজী হল। প্রথম দিকে লাহোর প্রস্তাবে হিন্দুপ্রধান ও মুসলিম প্রধান দুধরনের রাষ্ট্রের আলোচনায় অপেক্ষাকৃত বেশি মুসলিমের ভূমি বাংলাকে সম্পুর্ন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা দেবার কথা হলেও ব্রিটিষরা কিছুতেই রাজী হলনা। আবার জওহরলাল নেহেরুদের এক অখন্ড ভারতের দাবীও ব্রিটিষ সরকার মেনে নেয়নি। এর প্রেক্ষিতে তৈরী হল ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের।
ভারত কখনোই পাকিস্তানের স্বাধীনতা মেনে নেয়নি, এবং হিন্দু নের্তৃবৃন্দ এই ভারত বিভাগকে একটি সাময়িক সমাধান বলে আখ্যায়িত করে এবং সেই সাথে তারা তখন আশা পোষন করেছিল যে, অচিরেই তা আবার অখন্ড ভারতে রুপান্তর হবে। তারা কেবল আশা পোষন করেই থেমে থাকেনি, বরং সেই তখন থেকেই তাদের আশাকে বাস্তবে রুপান্তর করার জন্যে নিরন্তর চেষ্টা চালাতে থাকে। স্থান, প্রকৃতি ও ভাষাগত মিল থাকায় পূর্ব পাকিস্তানকেই অখন্ড ভারতের স্বপ্নের সহজ টার্গেট করে ভারত। ভারতবর্ষের মুসলিমগনের পূর্ব পুরুষ ছিল ভারতীয় হিন্দুদের একই ধর্মের মানুষ। এখানকার মুসলমানদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি খুব বেশি পুরোনো নয়। মাত্র ১২০০ বছরের ইসলামের অনুশীলন তাদের। তাই ভারতীয় চক্র এদেশের মানুষকে তার পুরোন সংস্কৃতি স্মরণ করিয়ে দিতে সবসময়ই সচেষ্ট রয়েছে। এভাবে যদি তারা বাংলার মুসলমানদেরকে ইসলামী সংস্কৃতির পরিবর্তে সনাতন ধর্মীয় সংস্কারে ফিরিয়ে নিতে পারে তবেই আর বিভক্ত রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা হারাবে। এই রকম পরিকল্পনা নিয়েই ষাটের দশক থেকেই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র নিজেদের অর্থে গড়ে তুলতে থাকে ছায়ানট এবং উদীচি সহ বহু সাংস্কৃতিক সংঘ।
ভারতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদিচী কিংবা ছায়ানট আজ যথেষ্টই সফল। আজকাল দেশে অগ্নী উপাসনা কিংবা মূর্তিপূজাকে সার্বজনীন করে ফেলা হয়েছে। এখন হিন্দু আচারগুলো ধীরে ধীরে মুসলমানদের দ্বারা অনুশীলন করানো হচ্ছে। আমরা দেখি অনুষ্ঠানের শুরুতে সনাতন ধর্মের আচার অনুযায়ী মোমবাতি জ্বালানো হয়। এমনকি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে পুরনো রোমান পৌত্তলিকদের মত করে জ্বালিয়ে রাখা আছে "শিখা অনির্বাণ"। অনেক জায়গায় ধর্মীয় গ্রন্থের পরিবর্তে গান গেয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। কপালে হিন্দুদের মত করে তীলক পরার সংস্কৃতি ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গেছে। নারীদের কপালের টিপ তো অনেক আগেই নিত্য নৈমিত্তিক হয়ে গিয়েছে। একসময় বাংলা নববর্ষকে আমরা বরণ করে নিতাম হালখাতা কিংবা মিলাদ-মাহফিল দিয়ে আর এখন তা সার্বজনীনভাবে মূর্তি, পুতুল নিয়ে মিছিল করে গান গেয়ে বেহায়াপনা করে বরণ করি। আগে মুসলমান সাহিত্যিকের লেখা গল্প কবিতাকে সহজেই হিন্দু সাহিত্যিকদের লেখা গল্প কবিতা থেকে আলাদা করা যেত, এখন আর তা সম্ভব হয়না। মানিক বন্ধোপাধ্যায় আর মীর মোশাররফ আলীর লেখনীর পার্থক্য খুব সহজেই আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু আজকের সাহিত্যিকগনের লেখা পড়ে বোঝা মুশকিল কে যে কোন সংস্কৃতির বাহক। আজকাল মুসলিম সাহিত্যিকগনও পানিকে জল বলে সম্বোধন করেন আর খোদাকে ইশ্বর বা ভগবান কিংবা সর্বোচ্চ হয়ত স্রষ্টা বলে ডাকতে পছন্দ করেন। জাতিস্বত্বার পরিচয় ভূলিয়ে দেবার ষড়যন্ত্রে তারা কতখানি সফল তা বুঝতে আর বাকি থাকার কথা নয়। এভাবে ধীরে ধীরে মুসলিমদের জাতিস্বত্বা তিন হাজার বছরের পুরোন বাঙালী সংস্কৃতির (যা মূলত: হিন্দু/সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতি) দ্বারা হারিয়ে যেতে বসেছে। যতই আমরা আমাদের মুসলমানদের নিজস্ব সংস্কৃতি ত্যাগ করে হিন্দু সংস্কৃতিতে হারিয়ে যাব, ততই বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বকীয়তা হারাবে এবং যেমনটা সিকিম এখন ভারতের একটি রাজ্যে পরিণত হয়েছে, তেমনি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের বাংলাদেশও অখন্ড ভারতের অংশে পরিণত হবার পথে এগিয়ে যাবে।
Showing posts with label Bangladesh. Show all posts
Showing posts with label Bangladesh. Show all posts
Saturday, December 31, 2011
Tuesday, August 3, 2010
৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া? নাকি, ঠান্ডা গৃহযুদ্ধের সূচনা?
৭২ এর সংবিধান কার্যকর হতে যাচ্ছে। ব্যপারটা কি বেশ চিন্তার বিষয় মনে হচ্ছে না? আমি তো রীতিমত ঠান্ডা যুদ্ধের গন্ধ শুঁকতে পারছি। পুরনো-পঁচা বাতিল ঐ সংবিধান দেশের নীতিতে একই সাথে গনতন্ত্র আর সমাজতন্ত্রকে একসাথে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এ দুই পরস্পর বিরোধী নীতিকে একসাথে রেখে, তার ওপর আল্লাহর উপর থেকে আস্থা ছেড়ে দিয়ে দেশকে কোথায় যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা নিয়ে অবশ্যই চিন্তার অবকাশ রয়েছে।
সমাজতন্ত্র, শুনলেই মনে পড়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা যা ভেঙে-চুরে আজ সুপ্ত পরাশক্তি রাশিয়াতে পরিণত হয়েছে। সমাজতন্ত্রে সকল সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানাকে নিষিদ্ধ। রাষ্ট্র সেখানে সকল সম্পদের মালিক এবং সম্পদের বণ্টন সমানভাবে সবার মাঝে বণ্টন করার নিয়ম এখানে।
অপরদিকে গনতন্ত্র চর্চায় সবার সামনের অবস্থানে রয়েছে আমেরিকা নামক পরাশক্তি। গনতন্ত্র স্বীকৃতি দেয় পুঁজিবাদকে। আর পুঁজিবাদ হল এমন নীতি যেখানে রাষ্ট্র কোন সম্পদের মালিক নয়, জনগন প্রত্যেকে আলাদা আলাদা ভাবে তাদের নিজেদের দখলে থাকা সম্পদের মালিক।
সমাজতন্ত্র এবং পূঁজিবাদী গনতন্ত্র হল দুটি পরস্পর বিরোধী নীতি। এ দুই নীতি কেমন করে একই সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত হতে পারে তা কৌতুহল উদ্দীপক। দেখা যাক, কেমন করে এ দুটি নীতি একসাথে বসবাস করে, কিছুদিন গেলেই নিশ্চয়ই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমেরিকা আর সোভিয়েত ইউনিয়নের সেই ঠান্ডা যুদ্ধ না আবার লেগে যায় এই ভয় হচ্ছে। একই ঘাটে বাঘ আর ছাগে পানি খেতে গেলে, ছাগের কপালে বাঘের পানিগ্রহনপূর্ব হালকা নাস্তায় পরিণত হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যেমন করে সোভিয়েত ইউনিয়ন আজ রাশিয়াতে পরিণত হয়েছে, তেমনি পূঁজিবাদ কিংবা সমাজতন্ত্রের যে কোন একটা অপরটার হাতে নিহত হবে এটা পুরোপুরি নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। তবে কোনটা টিকে থাকবে তা বলা কঠিন। ৭২ এর পর রক্ষীবাহিনীর হাতে যেমন করে নিহত হয়েছে অজস্র সমাজতান্ত্রকামী তেমনি আরেকটা হলোকাস্টের পূর্বাভাস অনেকের হৃদয়কেই হয়তো শংকিত করে তুলছে।
সমাজতন্ত্র, শুনলেই মনে পড়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা যা ভেঙে-চুরে আজ সুপ্ত পরাশক্তি রাশিয়াতে পরিণত হয়েছে। সমাজতন্ত্রে সকল সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানাকে নিষিদ্ধ। রাষ্ট্র সেখানে সকল সম্পদের মালিক এবং সম্পদের বণ্টন সমানভাবে সবার মাঝে বণ্টন করার নিয়ম এখানে।
অপরদিকে গনতন্ত্র চর্চায় সবার সামনের অবস্থানে রয়েছে আমেরিকা নামক পরাশক্তি। গনতন্ত্র স্বীকৃতি দেয় পুঁজিবাদকে। আর পুঁজিবাদ হল এমন নীতি যেখানে রাষ্ট্র কোন সম্পদের মালিক নয়, জনগন প্রত্যেকে আলাদা আলাদা ভাবে তাদের নিজেদের দখলে থাকা সম্পদের মালিক।
সমাজতন্ত্র এবং পূঁজিবাদী গনতন্ত্র হল দুটি পরস্পর বিরোধী নীতি। এ দুই নীতি কেমন করে একই সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত হতে পারে তা কৌতুহল উদ্দীপক। দেখা যাক, কেমন করে এ দুটি নীতি একসাথে বসবাস করে, কিছুদিন গেলেই নিশ্চয়ই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমেরিকা আর সোভিয়েত ইউনিয়নের সেই ঠান্ডা যুদ্ধ না আবার লেগে যায় এই ভয় হচ্ছে। একই ঘাটে বাঘ আর ছাগে পানি খেতে গেলে, ছাগের কপালে বাঘের পানিগ্রহনপূর্ব হালকা নাস্তায় পরিণত হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যেমন করে সোভিয়েত ইউনিয়ন আজ রাশিয়াতে পরিণত হয়েছে, তেমনি পূঁজিবাদ কিংবা সমাজতন্ত্রের যে কোন একটা অপরটার হাতে নিহত হবে এটা পুরোপুরি নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। তবে কোনটা টিকে থাকবে তা বলা কঠিন। ৭২ এর পর রক্ষীবাহিনীর হাতে যেমন করে নিহত হয়েছে অজস্র সমাজতান্ত্রকামী তেমনি আরেকটা হলোকাস্টের পূর্বাভাস অনেকের হৃদয়কেই হয়তো শংকিত করে তুলছে।
Labels:
72,
amendments,
Bangabandhu,
Bangladesh,
constitution,
law
Monday, October 13, 2008
বিভীষিকাময় ২১শে আগস্ট কক্ষনো ফিরে না আসুক..........
আইভি রহমান সহ ২৪ টি প্রাণ ঘাতী এবং এবং অসংখ্য সাধারন মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীর পঙ্গুত্ব বরণের বিভীষিকাময় ২১ শে আগষ্ট আর কক্ষনো যেন এ বাংলার বুকে ফিরে না আসে। আগামীর বাংলাদেশ দেখতে চাই শান্তিপ্রিয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাপুর্ণ হিংসা বিদ্বেষহীন সমাজের প্রতিকৃতি হিসেবে।
২১শে আগষ্টে জীবন দেয়া সকলের মৃত্যু পরবর্তি শান্তি এবং পঙ্গুত্ব বরনকারী রাজনৈতিক কর্মিদের সুস্থতা কামনা করি সকলে মিলে।
২১শে আগষ্টে জীবন দেয়া সকলের মৃত্যু পরবর্তি শান্তি এবং পঙ্গুত্ব বরনকারী রাজনৈতিক কর্মিদের সুস্থতা কামনা করি সকলে মিলে।
ভুলে গেছ তুমি যে "ফখরুদ্দিন"
ফখরুদ্দিনের বয়স তখন ৪৮। জীবনের এত লম্বা পথ পার করার পর হঠাৎই বোধোদয় হলো জীবনে আসলে সত্যিকারের জ্ঞান অর্জন করা হলো না। তাই সব ছেড়ে ছুড়ে জ্ঞানের সন্ধানে বের হলো সে।
খবর পাওয়া গেল অমুক জায়গায় এক ব্যাক্তি মানুষকে জ্ঞান দান করেন। তো সেদিকে ছুট লাগাল ফখরুদ্দিন। সেখানে পৌছে এলাকাবাসীর কাছ থেকে খোঁজ খবর নিয়ে সে একসময় পৌছে গেল সেই জ্ঞানীর প্রাসাদের সামনে। গিয়ে দেখল ওখানে অনেক লম্বা লাইন। মানুষজন লাইনে লাইনে গিয়ে তার কাছ থেকে জ্ঞান নিয়ে ফিরে আসছে। সেও দাড়িয়ে গেল লাইনে।
জ্ঞানদানকারীর কাছে জ্ঞান চাইতেই ফখরুদ্দিনকে সে একটা চামচ হাতে ধরিয়ে দিল। আর সে চামচে ছিল সামন্য একটু সরিষার তেল। জ্ঞানদানকারী ফখরুদ্দিনকে বলল "যাও, পুরো শহর ঘুরে এস, তবে সাবধান চামচের তেল যেন সামান্যও না পড়ে।"
যেই কথা সেই কাজ। ফখরুদ্দিন চামচের দিকে কড়া নজর রেখে সাবধানে পুরো শহর ঘুরে এল। একফোঁটা তেলও পড়েনি। ঘুরে এসে সে আবার জ্ঞানদানকারীর কাছে এল। জ্ঞানদানকারী তাকে জিজ্ঞেস করল "কি দেখলে?" ফখরুদ্দিন উত্তর দিল "আমিতো তেল বাচাতে গিয়ে শহরের কিছুই দেখতে পারিনি।" তখন জ্ঞানদানকারী তাকে ধমকে বলল "যাও এবার তুমি তেলও বাচাবে এবং তার সাথে পুরো শহর ঘুরে ভালভাবে দেখে আসবে।"
ফখরুদ্দিন আবার রওনা করল। তবে এবার সে শহর দেখতে গিয়ে অসাবধানতাবশত: তেলগুলো সব ফেলে দিল। তারপর হাজির হল সেই জ্ঞানদানকারীর কাছে। সব দেখে শুনে জ্ঞানদানকারী ঘোসনা দিলেন "ফখরুদ্দিন শুনে রাখ, তোমার পক্ষে একই সাথে কোন কিছুর যত্ন নেয়া এবং পাশাপাশি তার চারদিকে লক্ষ রাখা সম্ভব নয়"। তারপর ফখরুদ্দিন এখান থেকে এ জ্ঞান লাভ করে খুশি মনে ফিরে এল নিজের দেশে।
এ ঘটনার বেশ কয়েক বছর পর ফখরুদ্দিন এখন বাংলাদেশের তত্তাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।
ফখরুদ্দিন মনে করিয়ে দিতে চাই "ভাই তুমি ফখরুদ্দিনই, তোমার দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশের যত সম্পদ তাকে কিছুদিনের জন্য সুরক্ষিত রাখা। তুমি গত দেড় বছরে আশেপাশে বেশি নজর দিতে গিয়ে আমাদের সম্পদ অনেক নষ্ট করেছ। আর বেশি নজর দিওনা। তেল একদম ফুরাতে বসেছে।"
Thursday, October 9, 2008
রাজাকার বিরোধীদের প্রতি-দেশবিরোধী চক্র তাড়ানোর উপায়
আমি মনে করি ব্লগ থেকে দেশবিরোধী সকল ব্লগারকে তাড়িয়ে দেয়া উচিত।
মনে করুন আপনি রাজাকার বিরোধী পোষ্ট দিতে পছন্দ করেন, আমার মনে হচ্ছে আপনার কর্মসূচি এবং সর্বোপরি একাজের উপর কোন ধারনাই নেই। কেননা যদি আপনি কোন অ্যঅলগোরিদমকে কোন ল্যাংগুয়েজএ ইম্প্লিমেন্ট কাজ করতে যান তবে আপনাকে প্রথমে জানতে হবে আপনি আসলে কি করছেন, কি আউটপুট চান আর কিভাবে তা করবেন। আর কোন ল্যাংগুয়েজএ করবেন তা নিয়ে কোন চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। আপনি যে ল্যাংগুয়েজ ভাল জানেন তাই ব্যাবহার করুন।
তো আপনি করতে চান রাজাকার তাড়াতে। রাজাকার কথাটার মানে হল ভলান্টিয়ার। প্রথমেই ভাষাটা চেন্জ করে একে বলুন দেশবিরোধী। কারন এতে আপনার অ্যাসাইনমেন্টের টাইটেলটা পরিপূর্ন হবে। আর দু:খের ব্যাপার এই যে যারা আগে কখনো দেশবিরোধী কাজ করেছে তার দ্বারা আজও দেশবিরোধী কাজ হচ্ছে আর ভবিষ্যতেও হবে। আর যাদের কে আজ দেশের স্বার্থে কাজ করতে দেখছেন তারা আগেও করেছে ভবিষ্যতেও করবে।
জানা উচিত অ্যাসাইনমেন্ট শেষে ঘটনাটা কি ঘটবে। কিভাবে করতে হবে তাও জানতে হবে। তবে তা কোন নেটওয়ার্ক ব্যাবহার করে করবেন তা জানার কোন প্রয়োজন নেই।
দেশবিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্রকারিদের তাড়াতে আমি আপনার পাশে আছি। কেননা দেশপ্রেম ইমানের অংশ। দয়া করে থামবেন না। আপনি হয়তো কষ্ট করে জীবনটা কাটিয়ে দেবেন কিন্তু আপনার সন্তানের সুন্দর জীবনের জন্য অন্তত কাজ করে যান।
মনে করুন আপনি রাজাকার বিরোধী পোষ্ট দিতে পছন্দ করেন, আমার মনে হচ্ছে আপনার কর্মসূচি এবং সর্বোপরি একাজের উপর কোন ধারনাই নেই। কেননা যদি আপনি কোন অ্যঅলগোরিদমকে কোন ল্যাংগুয়েজএ ইম্প্লিমেন্ট কাজ করতে যান তবে আপনাকে প্রথমে জানতে হবে আপনি আসলে কি করছেন, কি আউটপুট চান আর কিভাবে তা করবেন। আর কোন ল্যাংগুয়েজএ করবেন তা নিয়ে কোন চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। আপনি যে ল্যাংগুয়েজ ভাল জানেন তাই ব্যাবহার করুন।
তো আপনি করতে চান রাজাকার তাড়াতে। রাজাকার কথাটার মানে হল ভলান্টিয়ার। প্রথমেই ভাষাটা চেন্জ করে একে বলুন দেশবিরোধী। কারন এতে আপনার অ্যাসাইনমেন্টের টাইটেলটা পরিপূর্ন হবে। আর দু:খের ব্যাপার এই যে যারা আগে কখনো দেশবিরোধী কাজ করেছে তার দ্বারা আজও দেশবিরোধী কাজ হচ্ছে আর ভবিষ্যতেও হবে। আর যাদের কে আজ দেশের স্বার্থে কাজ করতে দেখছেন তারা আগেও করেছে ভবিষ্যতেও করবে।
জানা উচিত অ্যাসাইনমেন্ট শেষে ঘটনাটা কি ঘটবে। কিভাবে করতে হবে তাও জানতে হবে। তবে তা কোন নেটওয়ার্ক ব্যাবহার করে করবেন তা জানার কোন প্রয়োজন নেই।
দেশবিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্রকারিদের তাড়াতে আমি আপনার পাশে আছি। কেননা দেশপ্রেম ইমানের অংশ। দয়া করে থামবেন না। আপনি হয়তো কষ্ট করে জীবনটা কাটিয়ে দেবেন কিন্তু আপনার সন্তানের সুন্দর জীবনের জন্য অন্তত কাজ করে যান।
বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকার!!!
বাংলাদেশের জনগন অনেক উথ্থান পতন আর আন্দোলনের মাধ্যমে পেয়েছে গনতন্ত্র। গনতন্ত্র এমন এক রাষ্ট্রব্যাবস্থা যাতে রাজতন্ত্রের মত নেই কোন একক সর্বক্ষমতাময় রাজা-বাদশাহ। আবার নেই স্বৈরশাষকের ন্যায় জবাবদীহিতাহীন সরকার। এ ব্যাবস্থায় জনগনই রাষ্ট্রের সব। কিন্তু সব জনগন যদি দেশের নীতিনির্ধারন করতে যায় তবে অবশ্যই এখানে জট পাকিয়ে যাবে। তাই জনগনই তাদের মধ্য থেকে সবচেয়ে জ্ঞানী আর দেশপ্রেমিক লোককে এলাকাভিত্তিক নির্বাচন করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংসদ কার্যক্রম সংগঠিত হয়। এ প্রতিনিধিরা একেকজন আবার একেক আদর্শের বাহক হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে জনগনের সাথে কাজ করে থাকে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্য বিশিষ্ট দল একক ভাবে অথবা অন্য দলের সাথে জোট সরকার গঠন করে।
দেশের সকল কার্যক্রম করে সরকারী কর্মকর্তাগন আর জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা তৈরি মন্ত্রি পরিষদ এবং সংসদ সদস্যগন সকল কার্যক্রম দেখাশুনা করেন এবং সঠিক ও ন্যায্য ভাবে বন্টনের চেষ্টা করে থাকেন।
এখন কথা হলো, কিভাবে এরকম রাজনীতিবিদ হওয়া যায়? রাজনীতিবিদ কি এমনি এমনি সৃষ্টি হতে পারে?
ভাল রাজনীতিবিদ হতে প্রয়োজন প্রথমত ভাল মানুষ হওয়া। তেমন ভাল যতটা ভাল মানুষ হলে দেশকে ব্যাক্তিস্বার্থের উর্দ্ধে রাখা যায়। ততটুকু দেশপ্রেমিক হতে হবে যতটুকু দেশপ্রেমিক হলে দেশের ও দেশের মানুষের স্বার্থে জীবন দেয়া যেতে পারে। জীবনে অসীম দু:খ দুর্দশার জন্য তৈরী থাকতে হবে। কেননা দেশের জন্য খাটতে গেলে নিজের ও পরিবারের জন্য খাটার সময় পাওয়া যায় না। শিক্ষিত হতে হবে, আর সুন্দর চারিত্রিক বৈশিষ্টসম্পন্ন হতে হবে। বছরের পর বছর দেশের মানুষের জন্য নি:স্বার্থে খেটে যেতে হবে। আরও যা করা প্রয়োজন তা হলো দেশের সকল ব্যাপারে নজর রাখা। দেশের ভালমন্দ নিয়ে ভাবা। নিজের এলাকার মানুষের দু:খ দুর্দশা সম্পর্কে খেয়াল রাখা। সমস্যাগুলো খুজে বের করা এবং সমস্যা উত্তরনের চেষ্টা করা।
উপরোক্ত গুনগুলো অন্তত যার মাঝে আছে তাকেই না তার এলাকার লোকজন তাদের এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে পাঠাতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী হবে। আর কোন রাজনৈতিক দলও তাকেই নমিনেশন দেবে এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু বাংলাদেশের জনগন কোন ভাল লোক দেখে ভোট দেয় না। ভোট দেয় মার্কা দেখে। আর এই সুযোগে দলগুলোও নমিনেশন দেয় টাকাওয়ালা লোক দেখে। আর গনতন্ত্র অজানার উদ্দেশ্যে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যায়।
দেশের সকল কার্যক্রম করে সরকারী কর্মকর্তাগন আর জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা তৈরি মন্ত্রি পরিষদ এবং সংসদ সদস্যগন সকল কার্যক্রম দেখাশুনা করেন এবং সঠিক ও ন্যায্য ভাবে বন্টনের চেষ্টা করে থাকেন।
এখন কথা হলো, কিভাবে এরকম রাজনীতিবিদ হওয়া যায়? রাজনীতিবিদ কি এমনি এমনি সৃষ্টি হতে পারে?
ভাল রাজনীতিবিদ হতে প্রয়োজন প্রথমত ভাল মানুষ হওয়া। তেমন ভাল যতটা ভাল মানুষ হলে দেশকে ব্যাক্তিস্বার্থের উর্দ্ধে রাখা যায়। ততটুকু দেশপ্রেমিক হতে হবে যতটুকু দেশপ্রেমিক হলে দেশের ও দেশের মানুষের স্বার্থে জীবন দেয়া যেতে পারে। জীবনে অসীম দু:খ দুর্দশার জন্য তৈরী থাকতে হবে। কেননা দেশের জন্য খাটতে গেলে নিজের ও পরিবারের জন্য খাটার সময় পাওয়া যায় না। শিক্ষিত হতে হবে, আর সুন্দর চারিত্রিক বৈশিষ্টসম্পন্ন হতে হবে। বছরের পর বছর দেশের মানুষের জন্য নি:স্বার্থে খেটে যেতে হবে। আরও যা করা প্রয়োজন তা হলো দেশের সকল ব্যাপারে নজর রাখা। দেশের ভালমন্দ নিয়ে ভাবা। নিজের এলাকার মানুষের দু:খ দুর্দশা সম্পর্কে খেয়াল রাখা। সমস্যাগুলো খুজে বের করা এবং সমস্যা উত্তরনের চেষ্টা করা।
উপরোক্ত গুনগুলো অন্তত যার মাঝে আছে তাকেই না তার এলাকার লোকজন তাদের এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে পাঠাতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী হবে। আর কোন রাজনৈতিক দলও তাকেই নমিনেশন দেবে এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু বাংলাদেশের জনগন কোন ভাল লোক দেখে ভোট দেয় না। ভোট দেয় মার্কা দেখে। আর এই সুযোগে দলগুলোও নমিনেশন দেয় টাকাওয়ালা লোক দেখে। আর গনতন্ত্র অজানার উদ্দেশ্যে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যায়।
Subscribe to:
Posts (Atom)